চট্টগ্রামে এক স্কুলছাত্রকে প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে
এর পরও অপহরণকারীরা মুক্তিপণের টাকা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়
আর এই টাকা আদায় করতে গিয়ে গত সোমবার নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় গ্রেপ্তার হয় দুই যুবক
অপহূত ছাত্রের নাম আশরাফ হোসেন
পুলিশ সূত্র জানায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক হলেন মো সাইফুল ইসলাম ২০ ও রুহুল আমীন ২২
তাঁদের মধ্যে সাইফুল চট্টগ্রামের পাইকারি চশমা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের ছেলে
আর আমীনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরে
নগরের স্টেডিয়াম মার্কেটে আমীন রাজু স্পোর্টস নামে তাঁদের একটি দোকান আছে
পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায় গত ১৬ মে সন্ধ্যায় ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করতে জে এম সেন হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র আশরাফকে অপহরণ করেন সাইফুল ও আমীন
১৮ মে শহরতলির বায়েজিদ থানার অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে পুলিশ আশরাফের লাশ উদ্ধার করে
বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় লাশটি
আশরাফের বাবা আজগর হোসেন নগরের লালদীঘির পাড়ের জান অপটিক্যাল নামে একটি চশমার দোকানের মালিক
আশরাফের বাবা ও সাইফুলের বাবা পরস্পর ঘনিষ্ঠ বন্ধু
নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন অপহরণকারীরা অনিবন্ধিত তিনটি মোবাইল সিম ব্যবহার করায় তাঁদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে
অপহরণের তিন মাস পর গত ১৭ আগস্ট সাইফুল আবার আশরাফের বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ফোনে মুক্তিপণ নিয়ে দরকষাকষি চলছিল
সোমবার রাতে আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের সামনে মুক্তিপণের টাকা লেনদেনের সময় পুলিশ সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে
পরে তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় আমীনকে
গতকাল মঙ্গলবার নগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে সাইফুল প্রথম আলোকে বলেন এইচএসসি পাস করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই
একই সময় আমাদের ভাড়াটে পরিবারের একটি মেয়েকে বিয়ে করি
কিন্তু মেয়েটি হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় বাবা-মা মেনে নেননি
পরে আমি স্ত্রীকে নিয়ে নগরের রঙ্গিপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় ওঠি
নালাপাড়ার নিজ বাসা ছাড়ার আগে মায়ের ১৫ ভরি গয়না চুরি করি
সেগুলো তিন লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করি
ওই গয়না ফেরত দেওয়ার জন্য মা আমাকে চাপ দিচ্ছিলেন
তাই গয়নার টাকা জোগাড় করতে আশরাফকে অপহরণ করি
সাইফুল বলেন গত বছরের ২১ ডিসেম্বর বিয়ে করি
ভাড়া বাসায় উঠে অর্থ-সংকটে পড়ি
মা গয়নার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন
তাই আশরাফকে অপহরণের পরিকল্পনা করি
আমি ও আমীন ১৬ মে সন্ধ্যায় কৌশলে আশরাফকে পাথরঘাটার বাসা থেকে ডেকে দেওয়ানহাট এলাকায় আনি
এর আগে আমার ভাড়া ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট আমীনের ভাইয়ের কথা বলে ভাড়া করি
ওই ভবনের পাঁচতলায় আমি থাকতাম
সাইফুল বলেন রাতে আশরাফকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের বড়ি মিশিয়ে খাওয়াই
এতে আশরাফ অজ্ঞান হয়ে পড়ে
আমি কাপড় দিয়ে তার মুখ এবং দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে রেখে পাঁচতলায় চলে যাই
ওই সময় তার বাবাকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করি
পরদিন ১৭ মে সকালে নিচতলার ফ্ল্যাটে গিয়ে তাকে মৃত দেখতে পাই
ফোনে বিষয়টি আমীনকে জানাই
সাইফুল আরও জানান আমীন স্টেডিয়াম মার্কেটের একটি দোকান থেকে বড় কার্টন আনলে তাতে আশরাফের লাশ ঢুকিয়ে রাখি
লাশ স্থানান্তরের জন্য আমরা লোডশেডিং ও রাতের অন্ধকারের অপেক্ষায় ছিলাম
রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করি
অন্ধকারের মধ্যে কার্টনটি গাড়িতে তুলে আমবাগান চলে যাই
সেখান থেকে আরেকটি অটোরিকশা ভাড়া করে আমরা অক্সিজেনের অনন্যা আবাসিক এলাকার কাছে কার্টন মোড়ানো লাশ ফেলে দিই
জানা গেছে বায়েজিদ থানার পুলিশ ১৮ মে রাতে আশরাফের লাশ উদ্ধার করে
তার ঘাড় কাটা ছিল ও মুখমণ্ডল ঝলসানো ছিল
মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মুখ এসিডে ঝলসে দেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে
এ ব্যাপারে সাইফুল ও রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে
ঈদের নামাজ
প্রাচীনতম ঈদগাহের প্রস্তুতি
চারপাশের হাল-আমলের বড় বড় দালানকোঠার আড়ালে পড়ে গেছে বলে সহজে চোখে পড়ে না ঢাকার সবচেয়ে পুরোনো ঈদগাহ
তবে কাছে গেলে দেখা যাবে সংস্কারের পর এখন ভেতরের দৃশ্য বেশ মনোরম
মাঠে ঘন সবুজ ঘাসের বিস্তার
চারপাশে নারকেল ও মেহগনি গাছের সারি
দক্ষিণ দিকের প্রাচীরের বাইরে বেশ কয়েকটি পুরোনো তেঁতুলগাছ
ছায়াময় পরিবেশ
লোকমুখে ধানমন্ডি বা শাহী ঈদগাহ নামে পরিচিত এই ঈদগাহে প্রস্তুতি চলছে ঈদের জামাতের
গতকাল মঙ্গলবার দেখা গেল মাঠে শামিয়ানা টাঙানোর জন্য তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী কাঠামো
ধানমন্ডির ৬/এ ও ৭/এ সড়কের মাঝখানে অবস্থিত মোগল আমলের এই ঈদগাহের এবার ৩৭০ বছর পূর্ণ হচ্ছে
ঢাকায় সুবাদার শাহজাদা সুজার আমলে নির্মিত স্থাপত্যগুলোর একটি ধানমন্ডির এই ঈদগাহ
ঢাকা যখন মোগল সুবা বাংলার রাজধানী হয় তখন এখানে কোনো ঈদগাহ ছিল না
সুবাদার সুজার শাসনামলে তাঁর দেওয়ান আবুল কাশেম হিজরি ১০৫০ মোতাবেক ১৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে এই ঈদগাহ নির্মাণ করেছিলেন
তখনকার ঢাকা শহর থেকে ঈদগাহটি ছিল প্রায় এক ক্রোশ অর্থাৎ দুই মাইলের মতো দূরে
প্রথম দিকে মূলত ঢাকার মোগল শাসক ও তাঁদের অমাত্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরাই এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করতেন
তাঁরা জাঁকজমকের সঙ্গে অনেকটা শোভাযাত্রার মতো করে ঈদের নামাজ আদায় করতে এই ঈদগাহে যেতেন
মুনশী রহমান আলী তায়েশ তাঁর তাহরিখে ঢাকা বইতে উল্লেখ করেছেন পরে ঢাকা ও আশপাশের সাধারণ মুসলমানরাও এখানে ঈদের জামাতে শরিক হতেন
তাঁরা সেখানে মেলারও আয়োজন করতেন
মুনশী রহমান আলী লিখেছেন শহরের মুসলমান মৎস্য ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর ওখানে একটি মেলার আয়োজন করেন
এতে হাজার হাজার লোকের সমাগম হয় এবং খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা চলে
ধানমন্ডির ঈদগাহের প্রধান মিহরাবের ওপরে সংযুক্ত শিলালিপি থেকে এর নির্মাণকাল সম্পর্কে জানা গেছে
শিলালিপিতে এর উচ্চতার কথা বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছিল
সে সময় এমন উঁচু মিনার কমই ছিল ঢাকায়
কালের কবলে পড়ে মিনার ও প্রাচীরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে ক্রমে ভেঙে পড়ে
কেবল পশ্চিমের প্রাচীরটিরই খানিকটা অংশ টিকে ছিল
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৮১ সালে এটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে সংরক্ষণ করছে
১৯৮৮ সালে ঈদগাহটি নতুন করে সংস্কার করা হয়
তবে এর মূল রূপ অক্ষুণ্ন রাখা হয়নি
যেমন প্রাচীরগুলোর উচ্চতা এক না থাকলেও এখন তা সবই সমান
বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে কেবল পশ্চিম দিকের প্রাচীরটিই মোগল আমলের
অন্য তিন দিকের প্রাচীর মোগলরীতি অনুসারে পুনর্নির্মিত
সংস্কারের সময় প্রাচীরের ওপরের অংশ পারস্যরীতির নকশায় অলংকৃত করা হয়েছে
প্রধান মিহরাবের পাশেই তিন ধাপের মিম্বর
সেখানে দাঁড়িয়েই কয়েক শতাব্দী ধরে ঈদের নামাজের খুতবা পাঠ করে গেছেন ইমামেরা
কালের পরিক্রমায় আরও এক ঈদ সমাগত
ঢাকার শাহী ঈদগাহের ইতিহাসের ধূসর খাতায় জমবে আরেকটি বছরের স্মৃতি
সোহেল তাজ এখনো প্রতিমন্ত্রী তবে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন না
সাংসদ তানজিম আহমদ সোহেল তাজ এখনো প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন
সরকার অন্য প্রতিমন্ত্রীদের যে সুযোগ-সুবিধা ও বেতন-ভাতা দিচ্ছে সোহেল তাজের জন্যও একই সুবিধা রাখা হয়েছে
ছুটিতে থাকার কারণে এবং কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে না থাকায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সোহেল তাজ কোনো সুবিধা বা বেতন-ভাতা নিচ্ছেন না
জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম আবদুল আজিজ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন শপথ নেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সোহেল তাজ প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাচ্ছেন
নতুনভাবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার খবর ঠিক নয়
আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এখন তিনি দপ্তরবিহীন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন সোহেল তাজকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সরকার দিচ্ছে
কিন্তু তা তিনি নেবেন কি নেবেন না এটা একান্তই তাঁর ব্যাপার
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় থাকার পরও কেন সোহেল তাজকে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে সচিব বলেন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী জানেন
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কোনো মন্তব্য করতে পারে না
একাধিক সূত্র জানায় সোহেল তাজ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কোনো বেতন-ভাতা নিচ্ছেন না
তবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নামে বেতন-ভাতা বরাদ্দ রাখা হয়েছে
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ওয়েবসাইটে সোহেল তাজকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখানো হয়েছে
গতকাল সোহেল তাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি
